পিরিয়ড কেন অনিয়মিত?

আপনার পিরিয়ড কি অনিয়মিত? কারণগুলো জেনে নিন

২৮ দিনে মাসিক চক্র পরিপূর্ণ হয়। বিভিন্ন কারনে অনেকের আবার ২৮ দিনের আগে বা অনেক পরে পিরিয়ড হয়ে থাকে। তখনই আমরা বলতে পারি “পিরিয়ড অনিয়মিত”।

পিরিয়ড নিয়িমিত হওয়াটা কতটা জরুরি তা হয়তো আমরা নারীরাই ভালো মত জানি। শরীরের প্রতিটি ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার জন্য পিরিয়ড নিয়মিত হওয়াটা অনেক জরুরি। আর থেকে বড় কথা হল- বাচ্চা কনসিভ করার পুরো প্রক্রিয়াতো নিয়মিত পিরিয়ডের উপরই নির্ভর করে।

কিভাবে বুঝবেন, পিরিয়ড অনিয়মিত কিনা?

পিরিয়ডের একটি সাইকেল রয়েছে, যেটা ২৮ দিন পর ৪-৭দিনের সময় নিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু যখন ২১ দিনের পর অথবা এরও কম সময় নিয়ে পিরিয়ড হয় বা ৩৫ দিন পর বা বেশ সময় পরে পিরিয়ড হয়, তখন বুঝতে পারবেন পিরিয়ড অনিয়মিত। এর বাইরেও অনিয়মিত পিরিয়ডের ক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। এই যেমন-

  • বয়স ৪৫ বছরের কম, এবং আপনার মাসিক হঠাৎ অনিয়মিত হয়ে গেছে
  • সহবাসের পর রক্তক্ষরণ হয়
  •  সময়মত মাসিক না হওয়া
  •  মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
  •  রক্তক্ষরণ সাত দিনের বেশি স্থায়ী হলে

পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার কারণ-

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল

টানা এক ধরনের পিল নিতে থাকলে বা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে অনিয়মিত পিরিয়ড হয়ে থাকে। 

হরমোনাল পরিবর্তন

হরমোনাল পরিবর্তন এখন অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার অন্যমত কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন ওভারি থেকে ডিম্বাণু ঠিকমত নির্গমন হয় না তখন ডিম্বাণুগুলো ওভারিতে সিস্ট তৈরি করে ওভারির চারপাশে জমা হয় এবং শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে পিরিয়ড সময় মতো হয় না। কখনো কখনো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রেস

অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগলে অনেক সময় হাইপোথ্যালামাস হরমোনটি ঠিকমতো কাজ করে না, যার ফলে পিরিয়ড শুরু হতে দেরি হয়।

ওজন কম বা বেশি

অতিরিক্ত ওজন বা অতিমাত্রায় কম থাকলেও কিন্তু অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়।

থাইরয়েড-এর সমস্যা

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড শরীরে মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড গ্রন্থির যে কোনো সমস্যার কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে।

ব্রেস্ট ফিডিং

ব্রেস্ট ফিডিং-কে বলা হয় ন্যাচারাল কন্ট্রাসেপ্টিভ বা প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। যেসব মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের পিরিয়ড সাধারণত বন্ধ থাকে বা অনিয়মিতভাবে হয়।

অতিরিক্ত ব্যায়াম

শুনে অনেকেই অবাক হন যে, অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। প্রফেশনাল ওয়ার্কআউট যারা করেন বা নিয়মিতভাবে কঠিন পরিশ্রম করেন, তারা এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। কারণ অতিরিক্ত এক্সারসাইজ ইস্ট্রোজেন লেভেল কমায়, যার ফলে পিরিয়ড বন্ধ হতে পারে।

প্রি-মেনোপজ

খুব কমন একটি কারণ হচ্ছে প্রি-মেনোপজ যা সব নারীরাই ফেইস করে থাকে। সাধারণত ৫০ বছর থেকে মেনোপজ বা একবারে পিরিয়ড বন্ধ হয়। অনেক সময় ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যেই মেনোপজ শুরু হয়ে যেতে পারে। একে প্রি-মেনোপজ বলে। এই প্রি-মেনোপজ-এর সময় পিরিয়ড অনিয়মিত হয়।

কিভাবে অনিয়মিত পিরিয়ডকে নিয়মিত করবেন?

·         দেরি না করে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

·         হেলথি খাবার গ্রহণ করুন।

·         রেগুলার এক্টিভিটিতে ইনভ্লব থাকুন, এক্সারসাইজ বা ইয়োগা করুন।

·         মেন্টাল হেলথের দিকে মনোযোগ দিন।

পিরিয়ড নিয়ে অনেকেই কথা বলতে চায় না। অনেকেই পিরিয়ড নিয়ে কোন সম্যস্যা হলে ডাক্তারের কাছেও যেতে চায় না। এতে কিন্তু সমস্যা বড়ই হবে। তাই খুব বেশি অনিয়মিত পিরিয়ড হলে বা পিরিয়ড নিয়ে যে কোনো কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে সাথে সাথে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।অথবা Lilacforyou.com এ ভিজিট করে অনলাইনেই ঘরে বসেই ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন।

Leave a Reply

Shopping cart

0
image/svg+xml

No products in the cart.

Continue Shopping