পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এ ভুগচ্ছেন কি?

সময়মত পিরিয়ড না হওয়া, শরীরে অবাঞ্চিত লোম, হঠাৎ করেই মুখ ভর্তি ব্রণ, অতিরিক্ত ওজন- এই সমস্যাগুলো ফেইস করছেন কি? এই সমস্যাগুলো পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (Polycystic ovary syndrome) বা PCOS-কে ইন্ডিকেট করে। এর জন্য নারীরা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যাতেও ভুগে থাকে। PCOS কী, এর লক্ষণগুলো কী কী, কীভাবে নিজেই PCOS-কে কন্ট্রোল করতে পারবেন,- বুঝতেই পারছেন, এই আর্টিকেল PCOS নিয়ে। 

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) কি?

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারণে শরীরে প্রকাশ পায়। ওভারিতে অস্বাভাবিক পরিমাণে অ্যান্ড্রোজেন (androgen) তৈরি হয়। অ্যান্ড্রোজেন হল পুরুষ হরমোন যা মহিলাদের শরীরে অল্প পরিমাণের থাকে। এই ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। আর একেই পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বলে।

কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায়?

PCOS-এ বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। সময়মত পিরিয়ড না হওয়া অন্যতম লক্ষণ। তার সাথে আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ইরেগুলার পিরিয়ড

 

PCOS এর প্রথম লক্ষণটি সর্বপ্রথম চোখে পড়ে তা হচ্ছে ইরেগুলার পিরিয়ড। PCOS এ ফলিক্যাল স্টুমুল্যাটিং (Follicle Stimulating) এবং লুটিনাইজিং হরমোনের (luteinizing hormones) মধ্যে যখন ইমব্যালেন্স হয় তখন ইসট্রজেন (Estrogen) এবং প্রজেসটিরন (Progesterone) ঐভাবে কাজ করতে পারে না। আর হরমোনের ইমব্যালেন্সের জন্যই কিন্তু ইরেগুলার পিরিয়ড হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় ২-৩ মাসেও পিরিয়ড হচ্ছে না বা ১ বছরেও পিরিয়ড হচ্ছে না। একে বলা হয় প প্রলংগেড এমিনোরিয়া (prolonged amenorrhea).  

হাইপার অ্যান্ড্রজেনিজম (Hyper-androgenism)

হাইপার অ্যান্ড্রজেনিজমে অবাঞ্ছিত লোম, একনি, হাইপার পিগমেন্টশন, চুল পড়া এই সমস্যাগুলো পড়ে। বডিতে কোন কোন অংশে ছোপ ছোপ কালো দাগ হচ্ছে, মুখ ভর্তি একনি দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত অ্যান্ড্রজোন এবং হাইপার ইন্সুলিনিয়ামের (hyper insulinemia) জন্য স্কিনের উপর প্রভাব পড়ে। সাথে চুল পড়া তো আছেই।

আবার PCOS রোগীদের আন্ড্রজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অবাঞ্ছিন্ত লোম দেখা দেয়। যেমনঃ থুতঁনি, ঠোঁটের উপর, বুকের মধ্যে। 

পলিসিস্টিক ওভারিস

ওভারিতে যখন ৬ থেকে ৭টির বেশি ছোট ছোট সিস্ট (cyst) হয় তখন একে PCOS এর লক্ষণ ধরা হয়। অনেক সময়, মহিলাদের ওভুলেশেনের (ovulation) সময় প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে সক্ষম হয় না। তখন ওভারিতে সিস্ট তৈরি হয়। আর এই সিস্টগুলোই আবার অ্যান্ড্রোজন নামক হরমোন তৈরি করে। এই সিস্টগুলোর কারণেই কিন্তু ইরেগুলার পিরিয়ড থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রবলেম ফেইস করতে হয়।

অতিরিক্ত ওজন

PCOS-এ হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যায়। ইনসুলিন গ্লকোজকে আমাদের সেলে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। হরমোনাল ইমব্যালেন্সের জন্য ইনসুলিন কাজ করতে না পাড়ায় অতিরিক্ত গ্লুকোজগুলো শরীরে চর্বি মানে ফ্যাট হিসেবে জমে যায়। তাই PCOS রোগীর ডায়বেটিকস, হাই ব্লাড প্রেশার, হার্টের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার অনেক সময় দেখবেন শুকনো নারীদেরও Pcos এর প্রবলেম ফেইস করে থাকে। এই ক্ষেত্রে prolonged amenorrhea ফেইস করে থাকে।       

কীভাবে কন্ট্রোল করবেন?

PCOS কন্ট্রোল করাটা কিন্তু অনেক সহজ। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন PCOS ট্রিটমেন্টের ৫০% আমরা নিজেরাই করতে পারি। বাকি ৫০% মেডিসিন দিয়ে কাজ করে থাকে। PCOS is not a disease it is a hormonal imbalance problem which can be recovered by lifestyle modification। প্রতিদিন ব্যয়াম এবং হেলথি খাবার গ্রহণ করলেই কিন্তু PCOS কন্ট্রোল থাকবে।

PCOS নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

১। PCOS রোগী গর্ভধারণ করতে পারবেনা

এই ধারণাটি একদম ভুল। হ্যাঁ, ইনফারটিলিটিতে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়, কিন্তু বাচ্চা হবে না এই কথাটি একসম ভুল। আর যদি অনেক দিন চেষ্টা করার পরও কনসিভ না হয়, প্যানিক না করে ডাক্তার দেখান, পরামর্শ অনুযায়ী মেডিসিন গ্রহণ করুন।

সতর্ক হন, আর শেয়ার করে অন্যকেও সচেতন করুন। আশা করি PCOS-এর আজকের আর্টিকেলটি হেল্পফুল ছিল। স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে লাইলাকের সাথেই থাকুন। স্বাস্থ্যের সাথে কিন্তু মনেরও যত্ন নেয়া দরকার। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *