শারীরিক, মানসিক অথবা যৌন হয়রানি- সচেতন হন।

শারীরিক, মানসিক অথবা যৌন হয়রানি- সচেতন হন।

এই বছরের থ্রিম “UNITE! Activism to End Violence against Women & Girls” শুধু এই বছর না, যখনই কোন নারী এবং মেয়ের উপর অত্যাচার হতে দেখা যাবে রুক্ষে দাঁড়াতে হবে। UN মানে United Nation থেকে প্রতি বছর ২৫শে নভেম্বর দিনটিকে উদযাপন করা হয় “International Day for the Elimination of Violence against Women” হিসেবে। এই দিনে বিভিন্ন সেমিনার থেকে শুরু করে অনেক কিছুই হয়। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার নির্যাতনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

ওয়ার্ল্ডে ৩জন নারীর মধ্যে ১জন নারী ফিজিক্যালি, মেন্টালি অথবা সেক্সুয়ালি তার পার্টনার বা অন্যজন দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। আর বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। ২০২১ সালে ১ হাজার ২৫৩ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৭৩৮ জন অর্থাৎ মোট ঘটনার প্রায় ৫৯ শতাংশ। এসব নারী ও শিশুর মধ্যে ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়।

গত বছর দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৯ হাজার। গত বছর ৬০২টি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার কথা জানা গেছে। এর মধ্যে ২৮৫ জন নারীকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে করোনা মহামারির বেড়ে যাওয়ায় সময় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা অর্থাৎ ধর্ষণ, তালাক, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, পাচার, অপহরণ ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটেছে।

চলতি বছরের মে মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বিগত মাসগুলোর তুলনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেড়েছে। মে মাসে ৪১৪টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

নির্যাতন কীভাবে একজন নারীর জীবনকে প্রভাবিত করে?

এই নির্যাতন কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সমাজকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঘরের মধ্যে, বা বাহিরে অথবা কর্মক্ষেত্রে যখন কোন নারী সেক্সুয়ালি, শারীরিক, মানসিককভাবে নির্যাতন হয় তখন একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, নিজের উপর আত্মনির্ভরশীলতা সব কিছুই নষ্ট করে দেয়। যা তার নিজের মেন্টাল হেলথ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন যাপনেও প্রভাব ফেলে। নির্যাতন বেশ কিছু রিস্ক বাড়িয়ে তুলছে-

  •         ব্রেইন ইনজুরি
  •         আত্মহত্যা
  •         হত্যা কান্ড
  •         ডিপ্রেশন

নিজের সম্পর্কে সচেতন

নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। পার্টনার হয়তো আপনাকে দিনের পর দিন কথা শুনিয়ে যাচ্ছে, আপনি হয়তো মনে করছেন “হয়তো ঠিক হয়ে যাবে” এতে করে নিজে মেন্টালি ব্রেক ডাউন তো হচ্ছেন এবং এর ফলাফল খারাপের দিকে যাবে। তাই নিজের জন্য কথা বলা শিখতে হবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, নিজে না পারলে অন্য একজনের সাহায্য নিতে হবে।

 

সাহায্য কীভাবে পাবেন?

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ,আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, অনেকেই পুলিশের কাছে যেতে ভয় পেয়ে থাকে, আবার অনেকেই বুঝে উঠতে পারে না কোথায় অভিযোগ করলে আসলে তাড়াতাড়ি এর ফল পাবে। এই ক্ষেত্রে দেশে অনেক সংস্থা রয়েছে, যারা আপনাকে সাহায্য করবে। এছাড়া ১০৯ হেল্প লাইনে ফোন দিয়ে নিজের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

দেশে অনেক ভালো ভালো আইন থাকলেও যথাযথভাবে এগুলোর প্রয়োগ না হওয়ায় নির্যাতনের ঘটনা কমছে না। তাই আইন প্রয়োগে আরও শক্ত হতে হবে। আর নিজের জন্য কথা বলা শিখতে হবে, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, নিজে না পারলে অন্য একজনের সাহায্য নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *