HIV নিয়ে কতটুক সচেতন?

HIV নিয়ে কতটুক সচেতন?

খুব অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে যে, বাংলাদেশকে এখনো HIV এর “হাই রিস্ক অফ কান্ট্রি” তে ধরা হয়। ১৯৯০ সাল থেকেই বিভিন্ন দেশে HIV নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যদিও ২০০৪ থেকে ২০০৫ এর মধ্যেই ১০লক্ষ মানুষ মারা যায়। এরপর থেকে যদিও মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮,৭৬১ জন এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৫৮৮ জন মারা গেছে, যা আনুমানিক ১৮.১৩% মৃত্যুর হার।

ইউএনএইডস, এইচআইভি/এইডস বিষয়ক যৌথ জাতিসংঘের কর্মসূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৪,০০০ এরও বেশি এইডস আক্রান্ত রোগী নিবন্ধিত হয়েছে যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ।

এইচআইভি (HIV) কি?

HIV- এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস-Human immunodeficiency virus) একটি ভাইরাস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে। যদি এইচআইভির চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি এইডস রুপে ধারন করে।

এখন পর্যন্ত এর কোন চিকিৎসা বের হয় নি। একবার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে, তাদের সারাজীবনের জন্য এটি থাকে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সুস্থ জীবন যাপন করা যায়। তাই ভয় না পেয়ে দ্রুত এর চিকিৎসা নেয়ায় ভালো।

কীভাবে এইচআইভি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে?

মানুষের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ মধ্য আফ্রিকার এক ধরনের শিম্পাঞ্জি থেকে এসেছে। ১৮০০ এর দশকের শেষের দিকে এইচআইভি শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটির শিম্পাঞ্জি সংস্করণকে সিমিয়ান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসও বলা হয়। যখন মানুষ মাংসের জন্য শিম্পাঞ্জিদের শিকার করেছিল তখন হয়তো তাদের সংক্রামিত রক্তের সংস্পর্শে এসেছিল।

আক্রান্ত হওয়ার কারন কি কি?

  •         আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথে যৌন যোগাযোগ,
  •         অবৈধ ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহার বা সূঁচ ভাগ করে নেওয়া,
  •         সংক্রামিত রক্তের সংস্পর্শে বা গর্ভাবস্থায়, এই অবস্থায় সন্তানের জন্ম বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এইচআইভি কীভাবে আমাদেরকে দুর্বল করে?

এইচআইভি ৪ টি কোষকে ধ্বংস করে – শ্বেত বা সাদা রক্ত ​​​​কোষ যা শরীরের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। শরীরে যত কম CD4 T কোষ থাকবে, ইমিউন সিস্টেম তত দুর্বল হবে।

 

 

 

কি কি লক্ষণ দেখা দিবে?

  •         জ্বর
  •         মাথা ব্যাথা
  •         শরীর ব্যাথা
  •         র‍্যাশ
  •         গলা ব্যথা এবং মুখে ঘা হওয়া
  •         ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি ফোলা,
  •         অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া 
  •         অতিরিক্ত রাতের বেলা ঘামা
  •         কাশি
  •         ডায়ারিয়া

আর এইচআইভি যখন এইডসে (AIDS) পরিনত হয় তখন ইমুইউনি সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায়। এমন সব রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে যা সাধারণত একজন সুস্থ ইমিউন সিস্টেমের সাথে অসুস্থতার কারণ হয় না। এগুলোকে সুবিধাবাদী সংক্রমণ বা সুবিধাবাদী ক্যান্সার (Opportunistic infection) বলা হয়।

হঠাৎ করে বাংলাদেশে HIV বেড়ে যাওয়ার কারণ?

এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে সনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং কভারেজ বাড়াতে কাজ করতে হবে। হঠাৎ করে বাংলাদেশে HIV বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারন হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশে এর ট্রিটমেন্ট্রের ভূমিকা-

বেসরকারি কোথাও এর কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। সারা দেশে 27টি এইডস সনাক্তকরণ কেন্দ্র রয়েছে এবং 11টি কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এইডসের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ রোগী ঘরে বসেই চিকিৎসা নেন। তবে তাদের নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। তবে কারো যদি এইডসের পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকে তাহলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের রোগটি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। আর স্বাস্থ্য বিষয়ক যে কোন তথ্যের জন্য Lilacforyou.com এ আপ্যানমেন্ট নিয়ে নির্দ্বিধায় কথা বলুন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *